আদমদীঘিতে বিনা চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু

আবু বকর সিদ্দিক বক্কর, আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার জেলার আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিনা চিকিৎসায় কালাচাঁদ সরকার নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত কালাচাঁদ সরকার (৬০) আদমদীঘি উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাঝি পাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
৫ মে মঙ্গলবার সকালে কালাচাঁদকে মুমূর্ষু অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় হাসপাতালের মেঝেতে ফেলে রাখা হয় এবং অ্যাম্বুলেন্স দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। এ ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার ফজলে রাব্বীর হাতে দিনকাল পত্রিকার সাংবাদিক উজ্জ্বল হোসেন হেনস্থার শিকার হয়েছেন ও তার মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্বজনদের অভিযোগ, তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে কালাচাঁদকে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি নেয়নি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো চিকিৎসাও দেয়নি। এক ঘণ্টা হাসপাতালের মেঝেতে পড়ে থাকার পর তার অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা বগুড়া নিয়ে যাওয়ার জন্য হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলে, তেল না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ হয়ে আছে। পরে নওগাঁ থেকে একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হন দৈনিক দিনকাল পত্রিকার আদমদীঘি উপজেলা প্রতিনিধি উজ্জল হোসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি যখন মেঝেতে পড়ে থাকা রোগীর ভিডিও ধারণ করছিলেন এবং অ্যাম্বুলেন্স চালকের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন ডাক্তার ফজলে রাব্বী উত্তেজিত হয়ে তার মুঠোফোন কেড়ে নিয়েই ক্ষান্ত হয়নি বরং অন্য চিকিৎসকদের সাথে নিয়ে ওই সাংবাদিকের ওপর হামলা করে। পরে রোগীর স্বজনরা এগিয়ে এসে সাংবাদিককে উদ্ধার করেন।
ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় সাংবাদিক ও বিক্ষুব্ধ জনতা হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আদমদীঘি উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ছাতিয়ান গ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মোত্তাকিন তালুকদার মুক্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে। উত্তেজনার মুখে অভিযুক্ত চিকিৎসক হাসপাতাল ত্যাগ করেন। ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, তার মুঠোফোনটি এখনো পর্যন্ত ওই চিকিৎসকের কাছেই রয়েছে।
নিহতের ছেলে বিপুল সরকার বলেন, ‘’এক ঘণ্টা আমার বাবা হাসপাতালের মেঝেতে বিনা চিকিৎসায় পড়ে ছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো চিকিৎসা দেয়নি। পরে আমরা নিজ উদ্যোগে অন্য জেলা থেকে অ্যাম্বুলেন্স এনে তাকে বগুড়ায় নিয়ে যাই।’’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার ফজলে রাব্বীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।



