সরকারি সোনাতলা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কেন্দ্রে ১ নম্বরের পরিবর্তে ৩ নম্বর সেটের প্রশ্নপত্রে ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষাঃ একদল শিক্ষার্থীর সোনাতলা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে হামলা, দিনভর পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার সরকারি সোনাতলা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কেন্দ্রে রবিবার (২৬-০৪-২৬) ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষা কর্তৃপক্ষের ভুলে ১ নম্বর সেটের পরিবর্তে ৩ নম্বর সেটের প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি জানাজানি হলে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ওই কেন্দ্রে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীসহ পার্শ্ববর্তী সোনাতলা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা। পরীক্ষার্থীদের একটি দল অপ্রত্যাশিতভাবে পরীক্ষার পর সোনাতলা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রেও হামলা চালায়। লাঠিসোঁটা নিয়ে তারা ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের লক্ষ্য করে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং শিক্ষকদের নাম ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। উত্তরপত্রগুলোও ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে হামলাকারীরা। সোনাতলা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা দরজা লাগিয়ে নিজেদের রক্ষা করেন।
বিক্ষুব্ধ আরেকটি দল সরকারি সোনাতলা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবকে অবরুদ্ধ করে রেখে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। পরীক্ষার্থীদের শান্ত করতে তাৎক্ষণিকভাবে সরকারি সোনাতলা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কেন্দ্রে আসেন সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্বীকৃতি প্রামানিক ও থানা অফিসার ইনচার্জ কবীর হোসেন । তারা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্বীকৃতি প্রামানিক কেন্দ্র সচিব মোঃ শাহাদুজ্জামান ও কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল লতিফকে অব্যাহতি প্রদানের ঘোষণা দেন। তিনি বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ লিখিত আকারে দেওয়ার আহ্বান জানান এবং কেউ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার আশ্বাস দেন। পরে তার উপস্থিতিতে ৩ নম্বর সেটে নেওয়া উত্তরপত্রগুলো আলাদা করে শিক্ষাবোর্ডে পাঠানো হয়।
ঘটনা জানতে সরকারি সোনাতলা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব মোঃ শাহাদুজ্জামান বলেন, রবিবার সকালে ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আনার জন্য চিঠিসহ সহকারী শিক্ষক মনিরুজ্জামানকে পাঠাই। তিনি প্রশ্নপত্র নিয়ে আসেন। সেই প্রশ্নপত্রের খামের উপর সেট-১ লেখা ছিল। সেখান থেকে প্রশ্ন বের করে কেন্দ্রে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু পরীক্ষা শেষে দেখা যায় প্রশ্নপত্রগুলো ছিল ৩ নম্বর সেটের। বিষয়টি জানতে পেরে আমি রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে অবহিত করি।
এ ব্যাপারে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আরিফুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান, এ ধরনের ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, যারা ৩ নম্বর সেটে পরীক্ষা দিয়েছে তাদের যেন কোন সমস্যা না হয় সেজন্য যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।



