সারাদেশ

সাঘাটায় সংযোগ সড়কের অভাবে অকার্যকর ৭ কোটি টাকার সেতু

জয়নুল আবেদীন,সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বাঙালি নদীর ওপর নির্মিত বলিয়ারবের সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। প্রায় ৭কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতু ঘিরে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হলেও সংযোগ (অ্যাপ্রোচ) সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সেই স্বপ্ন আজ অনেকটাই অধরা। স্থানীয় কিছু ব্যক্তির বাধার কারণে সেতুর দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক নির্মাণ বন্ধ হয়ে থাকায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সংযোগ সড়ক নির্মাণের চেষ্টা চালালেও নদীর দুই পাড়ের কয়েকজন ব্যক্তি জমি নিজেদের রেকর্ডভুক্ত দাবি করে কাজে বাধা দেন। বাধার কারণে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ ফেলেই চলে যান, এর ফলে সংযোগ সড়কের কাজ বন্ধ হয়ে যায় এবং আজও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে সেতু নির্মিত হলেও স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি হয়নি।
এলাকাবাসী জানান, বাঙালি নদীর দুই তীরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বলিয়ারবের সেতু নির্মাণ করা হয়। সেতু চালু হলে শিক্ষা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবেÑএমন প্রত্যাশা ছিল সবার। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় সেই প্রত্যাশা ভেস্তে গেছে। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও রোগীদের চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, উৎপাদিত কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করতে না পারায় তাদের অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় গুনতে হচ্ছে। অন্যদিকে জরুরি রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রেও মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, যা অনেক সময় জীবন-মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করেছে, কিন্তু দুই-একজন ব্যক্তির আপত্তির কারণে সেই সেতুর সুফল জনগণ পাচ্ছে না। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা না হলে এই সেতু কেবল সরকারি অর্থের অপচয়ের প্রতীক হয়েই থাকবে।”
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহিনুর ইসলাম সাজু জানান, সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে এবং সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য তাগাদা দেগয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাঘাটা উপজেলা প্রকৌশলী নয়ন রায় বলেন, “স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বাধার কারণে সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। এদিকে প্রকল্পের মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। এখন পূর্বের কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন করে বরাদ্দ ও অনুমোদন নিতে হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত জমি-সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন করে বরাদ্দ নিশ্চিত করে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করা জরুরি। অন্যথায় কোটি টাকার এই সেতু দীর্ঘদিন অকার্যকর পড়ে থাকবে এবং উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হবে হাজারো মানুষ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button