সরকারি কলেজের বেসরকারি কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে সচিবালয় অভিমুখে সমাবেশ

শিমন আহম্মেদ বাদল
চাকরি জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে রাজধানীর ঢাকা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে সমাবেশ করেছেন সরকারি কলেজের বেসরকারি কর্মচারীরা। সমাবেশ শেষে সচিবালয় অভিমুখে কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। এ সময় আন্দোলনরত কর্মচারীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে উপস্থিত হন বাংলাদেশ দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে সরকারি কলেজে কর্মরত বেসরকারি কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ ও স্থায়ীকরণের দাবি তুলে ধরা হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, দীর্ঘ ৫ থেকে ৩৫ বছর ধরে অনেক কর্মচারী সরকারি কলেজগুলোতে স্বল্প বেতনে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অথচ দীর্ঘ কর্মজীবন পার করেও তাঁদের অনেকের চাকরির স্থায়িত্ব, আর্থিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
বর্তমান সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সামান্য বেতনে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনযাপন করা তাঁদের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। সীমিত আয়ের মধ্যে পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানদের লেখাপড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে অনেক কর্মচারীকে।
আন্দোলনকারীরা মনে করেন, সরকারি কলেজের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় বেসরকারি কর্মচারীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁরা সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন ও পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন কাজ করার পরও চাকরির স্থায়িত্ব ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
কর্মচারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরি স্থায়ীকরণ ও জাতীয়করণের এই যৌক্তিক দাবি দীর্ঘদিন ধরে সরকারের বিভিন্ন মহলে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে তাঁদের প্রত্যাশা, বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত এসব কর্মচারীর কর্মসংস্থানের স্থায়ী নিশ্চয়তা প্রদান করবে।
সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বাংলাদেশ দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ আন্দোলনরত কর্মচারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানান। তাঁদের উপস্থিতি চাকরির নিরাপত্তা, ন্যায্য অধিকার ও স্থায়ী কর্মসংস্থানের দাবিতে চলমান আন্দোলনে পারস্পরিক সংহতি ও ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে।
আন্দোলনকারীদের এক দফা দাবি—সরকারি কলেজের বেসরকারি কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের মাধ্যমে তাঁদের চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা। তাঁদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের শ্রম, অভিজ্ঞতা ও অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মানবিক ও যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করবে।
দীর্ঘদিনের শ্রমের স্বীকৃতি, চাকরির নিশ্চয়তা এবং পরিবার নিয়ে সম্মানজনক জীবনযাপনের প্রত্যাশা থেকেই এই আন্দোলন—এমনটাই জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা। তাঁদের দাবি, জীবনের মূল্যবান সময় সরকারি কলেজের সেবায় ব্যয় করা কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় না রেখে চাকরি জাতীয়করণের এক দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নেবে।



