সারাদেশ

সাঘাটায় সরকারি স্কুল ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

জয়নুল আবেদীন, সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার শাহবাজেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবন নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট, সিমেন্ট ও রড ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ভবনটির তিনটি কক্ষের কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের পাশাপাশি ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্য রেখেই ঢালাই দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হলেও তা আমলে না নিয়ে ঠিকাদারের লোকজন দায়সারাভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি বাধা দেওয়ার পরও কাজ বন্ধ করা হয়নি।
সরেজমিনে স্থানীয়দের দেখানো বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়, নির্মাণাধীন ভবনের বিমের নিচ ও দুপাশ দিয়ে রড বেরিয়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও রডে মরিচাও ধরেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিম ঢালাইয়ের সময় ময়লা-আবর্জনা ও অন্যান্য বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ না করেই ঢালাইয়ের কাজ করা হয়েছে। ভবন নির্মাণে ব্যবহৃত ইট, সিমেন্ট ও রডের মান নিয়েও শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও নির্মাণকাজ বন্ধ করে ব্যবহৃত সামগ্রীর মান যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগের মধ্যেই কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে ভবন নির্মাণ করা হলে এর স্থায়িত্ব কমে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সরকারি অর্থে নির্মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনে নির্মাণমান নিয়ে এমন অভিযোগের দ্রুত তদন্ত দাবি করেছেন তারা।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, কোমলমতি শিশুদের জন্য নির্মিত সরকারি বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে যদি অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, তাহলে নির্মাণকাজের তদারকিতে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা কী? তবে নিম্নমানের নির্মাণকাজের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার জাকির হোসেন। তিনি বলেন, কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর কাছে টাকা দাবি করেছিলেন। টাকা না দেওয়ায় তাঁরা এসব অভিযোগ করেছেন। অভিযোগগুলো সঠিক নয়।
এ বিষয়ে এলজিইডির সাঘাটা উপজেলা প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হেলালুর রহমান বলেন, ‘এরকম হওয়ার কথা নয়। তারপরও বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয়দের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত নির্মাণাধীন ভবনটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে ব্যবহৃত ইট, সিমেন্ট, রডসহ সব নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষা করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে নির্ধারিত মান অনুযায়ী ভবন নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button