সাঘাটার আলাই ও বাঙালি নদী থেকে ফের বালু লুটের মহোৎসব, ঝুঁকিতে দুই সেতু

জয়নুল আবেদীন, সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার আলাই ও বাঙালি নদীজুড়ে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বালু উত্তোলনকারী চক্র। প্রশাসনের পূর্ববর্তী অভিযান ও নিষেধাজ্ঞার পরও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্প এলাকা থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সেতুর পাশ পর্যন্ত ড্রেজার ও বালগেট বসিয়ে প্রকাশ্যে বাণিজ্যিকভাবে বালু উত্তোলন চললেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাঙালি নদীর বাঙ্গাবাড়ী সেতু ও আলাই সতিতলা সেতুর আশপাশে একাধিক ড্রেজার মেশিন বসিয়ে গভীর নদীখাত থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, সেতুর খুব কাছাকাছি স্থান থেকে এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে সেতুর পিলার ও ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
অভিযোগ রয়েছে, বাঙ্গাবাড়ী সেতুর পাশের এলাকা থেকে খায়রুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে একাধিক ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে আসছেন। বর্তমানে তিন থেকে চারটি ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে নদীর গভীর থেকে মোটা বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই ভয়ভীতি, হুমকি এবং মিথ্যা মামলার আশঙ্কা দেখানো হয়। এ কারণে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। তাদের দাবি, বছরের পর বছর একই স্থান থেকে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে নদীভাঙনের ঝুঁকি এবং হুমকির মুখে পড়ছে সড়ক ও সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।
প্রতিবেদন প্রকাশের স্বার্থে খায়রুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “সাঘাটা নয়, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সীমানার মধ্যে থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রশাসন আগেও পাইপ ধ্বংস করেছে। এবার এলে জবাব দেওয়া হবে।”তার এই বক্তব্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে প্রশাসনের প্রতি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। বাঙ্গাবাড়ী এলাকার মানুষের অভিযোগ সেতুটি কোন গ্রামবাসীর একার কোনা সম্পদ নয় এটা জাতীয় সম্পদ রক্ষা করার দায়িত্ব প্রশাসনের। এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হবে। কোনো অবস্থাতেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না।”
এলাকাবাসীর দাবি, বাঙালি ও আলাই নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে ড্রেজার মেশিন ও বালগেট জব্দ, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা হোক। তাদের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে নদী, পরিবেশ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।



