বগুড়ার খবর

বগুড়ায় নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ দুই যুবকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা

স্টাফ রিপোর্টার

বগুড়ার সোনাতলায় পারিবারিক শত্রুতা ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নাজমুল হক এবং মোঃ বকুল ওরফে হালিমের নেতৃত্বে অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক রবিউল ইসলাম শাকিল এবং তার ভাই ফরহাদুদ জামান পলাশ, মিজানুর রহমান গুরুতর লাঞ্ছিত ও আহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সোনাতলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।
‎প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বালিয়াডাঙা গ্রামে জমিজমা নিয়ে নাজমুল হক ও বকুল গ্রুপের সাথে সাংবাদিক শাকিলের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন (শুক্রবার) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাংবাদিক রবিউল ইসলাম শাকিল, তার ভাই পলাশ ও মিজান সোনাতলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে বসে ছিলেন। এ সময় মূল অভিযুক্ত নাজমুল হক সাংবাদিক শাকিলের মুঠোফোনে কল করে উত্তেজিত কণ্ঠে জানতে চায়, “কোথায় তুই? তুই বলে মারবু, আয় স্টেশন আয়।” জবাবে শাকিল জানান যে তারা স্টেডিয়ামে আছেন।
মারপিটের শিকার রবিউল ইসলাম শাকিল জানান, ফোন রাখার পরপরই পূর্বপরিকল্পিতভাবে নাজমুল ও বকুলের নেতৃত্বে ১২-১৩ জনের একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে স্টেডিয়াম মাঠে প্রবেশ করে এবং তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
‎সাংবাদিক রবিউল ইসলাম শাকিলের পরিবারের দাবি- এই চক্রটি এর আগেও এই পরিবারের ওপর একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি সাংবাদিক শাকিল ও পলাশের বাবা ওমর ফারুকের ওপর প্রথম হামলা চালায় নাজমুল হক, তার বাবা মোজাম্মেল হক এবং বকুল ওরফে হালিম। এর পরদিনই (১২ জানুয়ারি) বালিয়াডাঙা গ্রামে ওমর ফারুকের পুত্র ফরহাদুদ জামান পলাশ, কন্যা তহসিনা খাতুন এবং স্ত্রী শাহিনুর বেগম গেলে তাদের ওপরও নৃশংস হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। পূর্বের ঘটনার কোনো সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে এই দফায় সরাসরি মাঠে নেমেছে ।
প্রকাশ্য দিবালোকে স্টেডিয়ামের মতো জনাকীর্ণ স্থানে একজন সংবাদকর্মীসহ যুবকদের ওপর এমন কাপুরুষোচিত হামলার ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এবং এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। এ বিষয়ে সোনাতলা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহল এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button