সাঘাটায় কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহকে নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

জয়নুল আবেদীন, সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
“শিক্ষক” শব্দটি একসময় ছিল শ্রদ্ধা, নৈতিকতা ও আদর্শের প্রতীক। একজন শিক্ষককে বলা হয় জাতি গঠনের কারিগর। কারণ, একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে শিক্ষকের জ্ঞান, আচরণ ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর। কিন্তু যখন সেই শিক্ষকই ক্ষমতার অপব্যবহার করে একজন গণমাধ্যমকর্মীকে মোবাইল ফোনে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন, তখন শুধু একজন ব্যক্তিই নন—আঘাতপ্রাপ্ত হয় পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা ও সমাজের নৈতিক ভিত্তি।
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহকে ঘিরে বর্তমানে জনমনে তীব্র আলোচনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি এক গণমাধ্যমকর্মীকে ফোনে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন। এ সংক্রান্ত অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর বিভাগীয় উপপরিচালক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—তদন্ত কি শুধুই লোক দেখানো? নাকি প্রশাসনের ভেতরে কোনো অদৃশ্য শক্তি অভিযুক্তকে রক্ষা করছে?
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অনেকেই বলছেন, একজন প্রধান শিক্ষক শুধু বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক প্রধান নন, তিনি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষারও প্রতীক। অথচ সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধেই যখন অশ্লীল ভাষা, হুমকি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে, তখন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সামনে কী ধরনের আদর্শ উপস্থাপিত হচ্ছে—তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সচেতন মহল।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আরও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে প্রশাসনের নীরবতা। তাদের ভাষ্য, যদি একজন সাংবাদিকও নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সাধারণ অভিভাবক কিংবা শিক্ষার্থীরা কতটা নিরাপদ? অনেকেই মনে করছেন, অভিযুক্তকে বহাল তবিয়তে দায়িত্বে রেখে তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন— অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি কি এখন আর অপরাধ নয়? ক্ষমতাবান হলেই কি আইনের ঊর্ধ্বে থাকা যায়? নাকি শিক্ষা বিভাগে এমন আচরণই এখন সহনীয় সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে?
অনেকের আশঙ্কা, এ ঘটনায় দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে। একই সঙ্গে অন্যদের মাঝেও ভুল বার্তা ছড়িয়ে পড়বে যে, প্রভাব থাকলে যেকোনো অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়া সম্ভব।
এ বিষয়ে সচেতন নাগরিকদের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কারণ, আইনের চোখে সবাই সমান—এই বার্তাই রাষ্ট্র ও প্রশাসনকে স্পষ্টভাবে প্রমাণ করতে হবে।
অন্যথায় জনগণ বিশ্বাস করতে বাধ্য হবে—শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরেই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়ার ভয়ংকর সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যেখানে ন্যায়বিচারের চেয়ে প্রভাবশালীদের অবস্থানই বেশি শক্তিশালী।


