সংগ্রামের রাজপথে পরীক্ষিত সোহেল রানা, সভাপতি পদে তৃণমূলের প্রত্যাশা

জয়নুল আবেদীন, সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

পদ-পদবির রাজনীতিতে অনেক নামই আলোচনায় আসে; কিন্তু দুঃসময়ে রাজপথে থাকা, মামলা-হামলার চাপ সামলে সংগঠনের কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ—নেতৃত্ব বাছাইয়ের সময় এসব বিষয়ই এখন সামনে আনছেন সাঘাটা উপজেলা ছাত্রদলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। আর সেই বিবেচনায় সভাপতি পদে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে এ.কে.এম. সোহেল রানার নাম।
দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তা এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে সোহেল রানাকে সভাপতি হিসেবে দেখতে আগ্রহী একটি বড় অংশের নেতাকর্মী। তাদের দাবি—শুধু পদপ্রত্যাশী নয়, সংগঠনের দুঃসময়ে যারা মাঠে ছিলেন, নেতৃত্বের দায়িত্বও তাদের হাতেই দেওয়া উচিত।
সম্প্রতি সাঘাটা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদকে ঘিরে সোহেল রানার নাম নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তাকে বোনারপাড়া সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে তার সক্রিয় ভূমিকা এবং তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
দুঃসময়ে রাজপথে থাকার দাবি
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ভাষ্য, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃত্বে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয় সুসময়ে নয়, দুঃসময়ে। সেই পরীক্ষায় সোহেল রানা কতটা সক্রিয় ছিলেন—এটাই তার রাজনৈতিক পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক বলে মনে করছেন সমর্থকরা।
তাদের দাবি, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি মাঠে সক্রিয় ছিলেন। হরতাল, অবরোধ ও মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তার অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা রয়েছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে মামলা, হামলা ও ভয়ভীতির মুখোমুখি হয়েও রাজপথ থেকে সরে না যাওয়ার বিষয়টি তার অনুসারীরা বিশেষভাবে সামনে আনছেন।
তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মীর মতে, যে নেতা সংগঠনের কঠিন সময়ে কর্মীদের পাশে থাকেন, তাদের খোঁজ নেন এবং মাঠে নেতৃত্ব দেন—পদ পাওয়ার পর তার কাছ থেকেই সংগঠনকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা বেশি থাকে। সোহেল রানার ক্ষেত্রেও এই আস্থাটিই সভাপতি পদে তার নামকে শক্তিশালী করছে বলে মনে করছেন তারা।
‘পদ নয়, সংগঠনকে শক্তিশালী করাই লক্ষ্য’
সভাপতি পদে নিজের আগ্রহ ও রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে এ.কে.এম. সোহেল রানা বলেন, “আমি পদকে কখনো রাজনীতির মূল লক্ষ্য মনে করি না। দুঃসময়ে দলের কর্মী-সমর্থকদের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব। দায়িত্ব পেলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, “যারা দীর্ঘদিন মাঠে থেকে সংগঠনের জন্য কাজ করেছেন, তাদের মূল্যায়ন হলে নেতাকর্মীদের মধ্যে আস্থা বাড়বে। আমি দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থাশীল। দায়িত্ব পেলে দল ও তৃণমূলের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
তৃণমূলের প্রত্যাশা—‘পরীক্ষিত নেতৃত্বের মূল্যায়ন হোক’
সাঘাটা উপজেলা ছাত্রদলের তৃণমূলের প্রত্যাশা শুধু নতুন একজন সভাপতি পাওয়া নয়; তারা এমন নেতৃত্ব চান, যিনি ইউনিয়ন থেকে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত সংগঠনকে সক্রিয় করতে পারবেন।
নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোহেল রানার তৃণমূল পর্যায়ে যোগাযোগ রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাজ করেছেন। ফলে দায়িত্ব পেলে সাংগঠনিক দুর্বলতা চিহ্নিত করে কর্মীভিত্তি শক্তিশালী করার সক্ষমতা তার রয়েছে—এমনটাই মনে করছেন তার সমর্থকরা।
তাদের মতে, কমিটি গঠনে শুধু পরিচিতি কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব নয়, মাঠের কর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দুঃসময়ের ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়া হলে সোহেল রানা এগিয়ে থাকবেন।
নেতৃত্বের প্রশ্নে সামনে ‘ত্যাগ বনাম সুবিধাবাদ’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেকোনো সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচন মূলত কয়েকটি প্রশ্নের ওপর নির্ভর করে—কে মাঠে ছিলেন, কে কর্মীদের ধরে রাখতে পেরেছেন এবং কে ভবিষ্যতে সংগঠনকে সাংগঠনিকভাবে এগিয়ে নিতে পারবেন।
সোহেল রানাকে ঘিরে তৃণমূলের প্রত্যাশার ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন সামনে এসেছে। তার সমর্থকদের বক্তব্য, রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূল না থাকা অবস্থায় যারা মাঠে ছিলেন, তাদের মূল্যায়ন না হলে তৃণমূলের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে। বিপরীতে, দুঃসময়ের কর্মীদের নেতৃত্বে আনলে সংগঠনের প্রতি কর্মীদের আস্থা আরও বাড়বে।
এ কারণে সোহেল রানার সভাপতি পদে আলোচনাকে অনেকে শুধু একজন ব্যক্তির পদপ্রাপ্তির প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন না; বরং এটিকে দুঃসময়ের কর্মীদের মূল্যায়ন বনাম সুবিধাবাদী নেতৃত্বের সম্ভাব্য প্রভাব—এই বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ হিসেবেও দেখছেন।
কর্মীদের প্রত্যাশা—‘মাঠের নেতৃত্ব সামনে আসুক’
তৃণমূলের একটি অংশের বক্তব্য, নেতৃত্ব নির্বাচনে তাদের মতামত ও মাঠের বাস্তবতা গুরুত্ব পেলে সোহেল রানা সভাপতি পদে শক্তিশালী প্রার্থী হতে পারেন।
তাদের প্রত্যাশা—কমিটি গঠনের সময় এমন নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হোক, যার সঙ্গে সাধারণ কর্মীদের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে, যিনি সংগঠনের কঠিন সময়ে মাঠে ছিলেন এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারবেন।
সোহেল রানার সমর্থকদের ভাষায়, “যারা দুঃসময়ে রাজপথে ছিলেন, সুসময়ে তাদেরই মূল্যায়ন হওয়া উচিত।”
সব মিলিয়ে সাঘাটা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদকে ঘিরে আলোচনায় সোহেল রানার নাম এখন তৃণমূলের প্রত্যাশার সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত কোন দিকে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে সভাপতি পদে তাকে ঘিরে তৃণমূলের প্রত্যাশা যে কেবল পদ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং পরীক্ষিত ও মাঠের নেতৃত্বকে সামনে আনার দাবিতে রূপ নিচ্ছে—এমনটাই মনে করছেন তার সমর্থকরা।


