সারাদেশ

সাঘাটায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে রহস্যজনক নীরবতা

জয়নুল আবেদীন, সাঘাটা(গাইবান্ধ) প্রতিনিধি

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত একাধিক গুরুতর অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম শেষ হওয়ার এক মাস পার হলেও এখনো জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়নি। এতে তদন্তের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়ে স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুল্লাহর বিরুদ্ধে কে.জি. স্কুলের শিক্ষার্থীকে বিধিবহির্ভূতভাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো এবং এক সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে সহকারী শিক্ষক শাহিনুর আলমের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রমে অনিয়ম, ক্লাস ফাঁকি দিয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনসহ বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপিত হয়।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশনায় গাইবান্ধা সদর উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলামকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। গত ৪ মে ২০২৬ তারিখে জারি করা এক দাপ্তরিক পত্রে ৬ মে বেলা ১১টায় কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিন তদন্তের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তদন্তে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণসহ উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
, নির্ধারিত তারিখে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও এক মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও তদন্ত প্রতিবেদন জেলা শিক্ষা অফিসে জমা না হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগকারীসহ স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, তদন্ত শেষ হওয়ার পরও প্রতিবেদন দাখিলে এত দীর্ঘসূত্রতার কারণ কী? কোনো প্রভাবশালী মহলের চাপ কিংবা অন্য কোনো কারণে তদন্ত প্রক্রিয়া ধীরগতি হচ্ছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে বিষয়টির সুষ্ঠু নিষ্পত্তি করা হোক। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তদন্ত কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান আজকে সময় পেলে দিয়ে দিবো না হয় আগামীকাল দিবো বলে জানান। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষ্মণ কুমার দাশ জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদন আগামীকাল হাতে পাবো, পরে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button