সোনাতলায় হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা

মিনাজুল ইসলাম

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা সদর থেকে শুরু করে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে হাত বাড়ালেই মিলছে গাঁজা, মদ, ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। মাদকের সহজলভ্যতায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন অভিভাবকসহ সচেতন নাগরিকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবারিদের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, গোপন স্থান থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্পটে মাদক কেনাবেচা চলছে। এতে উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত—বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মাদকের নেশায় জড়িয়ে পড়ছেন।
বিশেষ করে উঠতি বয়সের যুবক, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং তরুণদের মধ্যে মাদক গ্রহণের প্রবণতা বাড়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের আশঙ্কা, মাদকের সহজলভ্যতা অব্যাহত থাকলে এর নেতিবাচক প্রভাব নতুন প্রজন্মের ওপর আরও বাড়তে পারে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একসময় সোনাতলা উপজেলায় ফেনসিডিল, গাঁজা ও মদের ব্যবসা করতেন গুটিকয়েক ব্যক্তি। তখন এসব মাদকদ্রব্যের কেনাবেচা অনেকটা গোপনে হতো বলে স্থানীয়দের দাবি। বর্তমানে গাঁজা ও মদের পাশাপাশি ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের বেচাকেনা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক ব্যবসার সঙ্গে অল্পবয়সী কিছু তরুণও জড়িয়ে পড়ছেন। আবার কেউ কেউ প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতেও অনেকে ভয় পান। ফলে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে প্রশাসনকে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের একটি বড় অংশের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে বলে স্থানীয়দের দাবি। সচেতন নাগরিকরা নতুন প্রজন্মকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৌর সদরের বাংলালিংক টাওয়ার মাদক বিক্রেতা ছবি বেগম, থানার পূর্বপাশে গড়ফতেপুর মাদক বিক্রেতা রঞ্জু, এছাড়াও পৌর এলাকার আগুনিয়াতাইড় উত্তরপাড়া, বিশুরপাড়া, সদর ইউনিয়নের নাপিতবাড়ী, উপজেলার কামারপাড়া, বালুয়া, কর্পূর, পাঠানাপাড়া, মহিচরণ, সৈয়দ আহম্মদ কলেজ এলাকা, চরপাড়া, বকুলতলা, হরিখালি, কাঁচারিবাজার, পাকুল্লা, শালিখা, ভেলুরপাড়া, বাঙালি বাজার, হাটকরমজা ও আড়িয়ারঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব এলাকার কিছু নিরিবিলি স্থানকে মাদক কেনাবেচার জন্য ব্যবহার করা হয়। কোথাও কোথাও মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণভাবে মাদক সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সরেজমিনে যাচাই এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, সোনাতলার যুবসমাজের একটি অংশ মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছে। তাদের অভিযোগ, নেশার টাকা জোগাড় করতে কেউ কেউ চুরি, ছিনতাই, মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
তাদের দাবি, গ্রামগঞ্জে মাঝে-মধ্যেই চুরি ও অন্যান্য অপরাধের ঘটনা ঘটছে। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে মাদকের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, মাদকের সহজলভ্যতা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। তার মতে, অল্পবয়সী তরুণদের একটি অংশ মাদকের নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপরও।
তিনি বলেন, মাদকাসক্তি শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই ধ্বংস করে না; এর প্রভাব পুরো পরিবার ও সমাজের ওপর পড়ে। তাই শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষক ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
স্থানীয় একাধিক অভিভাবকও মাদকের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও কার্যকর অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, মাদক বিক্রির অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত কারবারিদের আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসন ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থাও করা জরুরি।
এ বিষয়ে সোনাতলা থানার ওসি কবির হোসেন বলেন,মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যহত আছে এবং থাকবে।



