সারাদেশ

সাঘাটায় মামলার বাদীকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

জয়নুল আবেদীন, সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

গাইবান্ধার সাঘাটায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে এক ব্যক্তির আঙুল কর্তনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী ও তার পরিবারকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে।
জানা গেছে, গত ২৭ মে উপজেলার কামালেরপাড়া ইউনিয়নের পাঁচপুর গ্রামে মুসা আলমের মালিকানাধীন জায়গায় প্রতিবেশী মকবুল হোসেনের লোকজন জোরপূর্বক খড়ের পালা দেওয়ার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নিলে প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা মুসা আলমের মাথায় আঘাত করার উদ্দেশ্যে ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লে তিনি আত্মরক্ষার্থে হাত দিয়ে প্রতিরোধ করেন। এ সময় ছুরির আঘাতে তার হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আহত মুসা আলম (৩৮) উপজেলার পাঁচপুর গ্রামের মৃত মফিজল আকন্দের ছেলে। ঘটনার পর তার স্ত্রী ডলি বেগম বাদী হয়ে সাঘাটা থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
কিন্তু মামলা দায়েরের পর থেকেই শুরু হয়েছে নতুন উৎকণ্ঠা। বাদীপক্ষের অভিযোগ, অভিযুক্তরা মামলা প্রত্যাহারের জন্য নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করছে। মামলা তুলে না নিলে প্রাণনাশসহ ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, হামলার ঘটনায় ন্যায়বিচার চাওয়ায় তারা এখন উল্টো হুমকি ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারেÑএমন আশঙ্কায় তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাশাপাশি দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম জানান, আঙুল কর্তনের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার পাশাপাশি হুমকির অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button