সাঘাটায় প্রেমিক যুগলের মরদেহ উদ্ধার

জয়নুল আবেদীন,সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

গাইবান্ধার সাঘাটায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান এবং পরিবারের আপত্তির জেরে প্রেমিক যুগলের একসঙ্গে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবনের ঘটনা ঘটেছে। পরে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুক্ষণের ব্যবধানে দুজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতরা হলেনÑসাঘাটা উপজেলার পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের আজাদুল ইসলামের ছেলে আল আমিন মিয়া (১৮) এবং পদুমশহর ইউনিয়নের জোরডোবা গ্রামের ফরহাদ মিয়ার স্ত্রী ও দক্ষিণ শ্যামপুর গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে তাসলিমা আক্তার তাজমিন (২৫)। তাজমিন এক সন্তানের জননী ছিলেন।
পুলিশ এবং পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আল আমিন ও তাজমিনের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বয়সের ব ব্যবধান, তাজমিনের বিবাহিত জীবন ও সন্তান থাকার বিষয়টি নিয়ে তাঁদের দুই পরিবারের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিবার বিষটিতে সম্মতি না থাকায়।
গত রোববার তাজমিন বিয়ের দাবিতে আল আমিনের বাড়িতে অবস্থান নেন। বিষয়টি জানাজানি হলে আল আমিনের পরিবারের সদস্যরা তাঁদের সম্পর্ক মেনে নিতে রাজি হননি। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে অস্বস্তি ও টানাপোড়েন তৈরি হয়।
এরপর সোমবার দুই পরিবারের আপত্তির মধ্যে আল আমিন ও তাজমিন একসঙ্গে জমিতে ব্যবহারের জন্য রাখা কীটনাশক (গ্যাস) ট্যাবলেট সেবন করেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্বজনেরা তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুক্ষণের ব্যবধানে দুজনের মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর স্থানীয় সূত্রের দাবি, আল আমিনের স্বজনেরা কৌশলে তাঁর মরদেহ হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে যান। অন্যদিকে তাজমিনের মরদেহ হাসপাতালে রাখা হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে আল আমিনের মরদেহ উদ্ধার করে।
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হুদা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ আল আমিনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুরো ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



