সারাদেশ

গাইবান্ধা-৫ আসনে আ.লীগের অনুপস্থিতি-জাপার বিদ্রোহ: সুবিধাজনক আবস্থায় স্বতন্ত্র, সুযোগে আছে জামাত

জয়নুল আবেদীন,সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

“লাঙ্গল আছে, আবার লাঙ্গলের লোকই মোটরসাইকেল নিয়ে মাঠে। আওয়ামী লীগ নাই, বিএনপির লোক আবার হাঁস প্রতীকের পক্ষে কাজ করে। আমরা সাধারণ ভোটাররা শুধু হিসাব মিলাই’ বলছিলেন সাঘাটার অটোভ্যান আবু তাহের । এই হিসাব আর দ্বিধা ভ্যানচালকের নয় সিংহভাগ সাধারণ ভোটারের মধ্যেই।
এই দ্বিধাই গাইবান্ধা-৫ আসনের নির্বাচনী বাস্তবতা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ, আওয়ামী লীগের প্রার্থী না থাকা এবং বিএনপির ভেতরের বিভক্তিতে ভোটের মাঠে তৈরি হয়েছে জটিল সমীকরণ। এই পরিস্থিতিতে জাতায় পার্টি ও আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক বলে পরিচিত আসনটিতে এবার সুবিধাজনক অবস্থানে উঠে এসেছেন হাঁস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদুজ্জামান নিশাদ। নির্বচন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীদের বিরামহীন প্রচার-প্রচারণার ভোটারদের মধ্যেও ভোটের হিসাব নিকাশ স্পস্ট হয়ে উঠছে।
এই আসনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী লাঙ্গল প্রতীকে প্রার্থী হলেও তাঁর বিপরীতে দলটিরই সাবেক কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম গোলাম শহীদ রনজু মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে জাপার ঐতিহ্যগত ভোটে ভাগ বসার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
এদিকে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় দলটির অনেক নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আত্মগোপনে থাকা আ.লীগ কর্মীদের স্বজন ও সমর্থকদের একটি বড় অংশ স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদুজ্জামানের পক্ষে নীরবে প্রচারণায় যুক্ত হয়েছেন। এছাড়াও নাহিদুজ্জামানের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে ইতোমধ্যে বিএনপির কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাঘাটা উপজেলার এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, “নাহিদুজ্জামান জিতলে মামলা-মোকদ্দমা ও পুলিশি হয়রানি কমবেÑএই বিশ্বাস থেকেই অনেকেই তাঁর পক্ষে কাজ করছেন।” বিশেষ করে নারী ভোটাররা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষেই ভোট প্রদানে আগ্রহ দেখাচ্ছে। জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, “বিদ্রোহী প্রার্থী কিছুটা প্রভাব ফেলবেন, তবে আমরা সবাইকে একত্র করার চেষ্টা করছি। এই আসনে জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।”
অন্যদিকে বিদ্রোহী প্রার্থী এ এইচ এম গোলাম শহীদ বলেন, “প্রতীকের কারণে আমাকে নতুন করে ভোটারদের বোঝাতে হচ্ছেÑলাঙ্গল না মোটরসাইকেল।”বিএনপি প্রার্থী ফারুক আলম স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ তুললেও নাহিদুজ্জামান নিশাদ তা অস্বীকার করে বলেন, “দীর্ঘদিন মানুষের পাশে থাকায় জনসমর্থন তৈরি হয়েছে। কিন্তু আমার কর্মীদের ওপর হামলা ও প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে।” এদিকে জামায়াত প্রার্থীও এবার দল দুটির বিভাজনের সুযোগের অপেক্ষা রয়েছে।
সব মিলিয়ে গাইবান্ধা-৫ আসনে এবার লড়াই শুধু দলীয় প্রতীকে নয়, ভোট হচ্ছে বিদ্রোহ, ভয় ও সুবিধার হিসাব মিলিয়ে। আর এই হিসাবের মাঝখানেই দোদুল্যমান সাধারণ ভোটার।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button