গাইবান্ধা-৫ আসনে শক্ত অবস্থানে বিএনপি-জামায়াত-স্বতন্ত্র: ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস

জয়নুল আবেদীন, সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি)) আসনে ভোটের অঙ্ক ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। প্রচার-প্রচারণার তৎপরতা, মাঠের কর্মসূচি ও ভোটারদের মনোভাব বিশ্লেষণ করলে এ আসনে একাধিক শক্তিশালী প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত মিলছে।
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৫ হাজার। নির্বাচনে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বাস্তবে ভোটের লড়াই সীমাবদ্ধ হয়ে এসেছে পাঁচজনের মধ্যে। তাঁরা হলেন বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব ফারুক আলম সরকার (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ আলী (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী (লাঙ্গল), বিএনপি থেকে বহিস্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদুজ্জামান নিশাদ (হাঁস) এবং জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ও বিদ্রোহী প্রার্থী অ্যাডভোকেট এ এইচ এম গোলাম শহীদ রঞ্জু।
রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, ১৯৯১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এ আসনে জাতীয় পার্টি তিনবার এবং আওয়ামী লীগ চারবার জয়ী হয়েছে। তবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় ভোটের সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। একই সঙ্গে জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক দুর্বলতা ও অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে দলটি এবার প্রতিযোগিতায় অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বিএনপি ও জামায়াত। মাঠ পর্যায়ে বিএনপির অবস্থান তুলনামূলক ভালো হলেও দলটির ভেতরের বিভক্তি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি থেকে বহিস্কৃত নেতা ও ব্যবসায়ী নাহিদুজ্জামান নিশাদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই মাঠে সক্রিয়। অনেক আগে থেকেই তিনি সাঘাটা ও ফুলছড়ি উভয় উপজেলায় সংগঠিতভাবে কাজ করে নিজস্ব ভোটব্যাংক গড়ে তুলেছেন।
এলাকা ভিত্তিক জনসেবা, সামাজিক ও ধর্মীয় নানা কর্মসূচিতে নিয়মিত উপস্থিতির কারণে তিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখে পরিণত হয়েছেন। তরুণ, নারী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা স্পষ্ট। এ কারণেই বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী থাকলেও দুই উপজেলার একাংশ নেতাকর্মী দলীয় শাস্তির ঝুঁকি মাথায় নিয়েই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে ও নীরবে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
অন্যদিকে, ফারুক আলম সরকারের ধানের শীষ প্রতীকও বড় ফ্যাক্ট হিসেবে বিএনপির ভোটারদের সামনে এসেছে। বিএনপির মূলধারার নেতাকর্মীরা দাবি করছেন, সার্বিকভাবে মাঠে বিএনপির পক্ষেই জনমত রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হবে।
এ পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকায় দলটি তুলনামূলক স্বস্তিতে রয়েছে। মাঠ পর্যায়ের প্রচারণায় তাদের সংগঠিত উপস্থিতি ও আত্মবিশ্বাস লক্ষণীয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভক্তির সুফল জামায়াতের ঝুলিতে যেতে পারে। আবার যদি নির্বাচনে কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, সে ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদুজ্জামান নিশাদের বিজয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে প্রবল।
সব মিলিয়ে গাইবান্ধা-৫ আসনে এবারের নির্বাচন কেবল দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিভক্ত রাজনীতি, স্বতন্ত্র শক্তির উত্থান ও ভোটের অঙ্ক এখন যদি,কিন্তু, তবের হিসাবের উপর নির্ভর করছে সবকিছু মিলিয়ে ফল নির্ধারিত হবে শেষ মুহূর্তে ভোটারদের সিদ্ধান্তেই।



