বগুড়া প্রতিনিধি
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার শালিখা উত্তরপাড়ায় দিনব্যাপী বিনামূল্যে মানবিক চক্ষু শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সামাজিক প্রতিষ্ঠান 'মরহুম আব্দুল বারী স্মৃতি পাঠাগার'-এর উদ্যোগে এবং বগুড়ার বেতগাড়ী গ্রামীণ জিসি চক্ষু হাসপাতালের কারিগরি সহযোগিতায় এই শিবিরের আয়োজন করা হয়। চোখ ও দৃষ্টিজনিত নানা সমস্যায় ভুগতে থাকা এলাকার পাঁচ শতাধিক অসহায়, দুস্থ ও সাধারণ রোগীকে এই শিবিরে বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং উন্নত মানের চশমা প্রদান করা হয়েছে। ৫নং মধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল আলীমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই স্বাস্থ্য শিবিরে উপস্থিত ছিলেন মরহুম আব্দুল বারী স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ, সোনালী ব্যাংক পিএলসি, সোনাতলা শাখার ব্যবস্হাপক সুলতান মাহমুদ, শালিখা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মোঃ আহসান হাবিব। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন পাঠাগারের কোষাধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাফিউল ইসলাম সিজা ও নাফিউল ইসলাম নাফিস প্রমূখ। বগুড়ার বেতগাড়ী গ্রামীণ জিসি চক্ষু হাসপাতালের পক্ষে চক্ষু শিবিরটি সমন্বয় করেন আর জামান সুমন। দিনব্যাপী এই চিকিৎসা শিবিরে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা রোগীদের অত্যন্ত যত্ন ও আন্তরিকতার সাথে চিকিৎসাসেবা দেন গ্রামীণ জিসি চক্ষু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মাহমুদুল হাসান। সকাল থেকেই চোখ পরীক্ষা ও পরামর্শ সেবা নিতে নানা বয়সী মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। বিনামূল্যে এই উন্নত চিকিৎসাসেবা, ওষুধ ও চশমা পেয়ে এলাকার দরিদ্র ও প্রবীণ মানুষের মাঝে
এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। চশমা ও ওষুধ হাতে পেয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শালিখা গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ মোঃ আব্দুস সামাদ বলেন, "বেশ কিছুদিন ধরে চোখে খুব ঝাপসা দেখতাম। টাকার অভাবে শহরে গিয়ে ভালো ডাক্তার দেখানোর সামর্থ্য ছিল না। আজ বাড়ির কাছে ফ্রিতে বড় ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ আর চশমা পেলাম। চশমাটা চোখে দেওয়ার পর এখন অনেক পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি। যারা এই অভাবের দিনে আমাদের মতো গরিব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, আল্লাহ তাদের মঙ্গল করুন।" একইভাবে চোখ পরীক্ষা করিয়ে চশমা ও প্রয়োজনীয় ড্রপ পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন ৬২ বছর বয়সী বৃদ্ধা হাজেরা বেগম। নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে তিনি বলেন, "চোখের সমস্যার কারণে ঠিকমতো সুঁই-সুতাও ধরতে পারতাম না, চলাফেরায় কষ্ট হতো। আজ ডাক্তার বাবু খুব নরম সুরে কথা বলে চোখ দেখে দিলেন, সাথে ওষুধও দিলেন। আমাদের মতো অসহায় মানুষের জন্য এত বড় উপকারের ব্যবস্থা করায় এই পাঠাগারের দায়িত্বে থাকাদের জন্য মন থেকে দোয়া করছি।" সভাপতির বক্তব্যে ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল আলীম বলেন, গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে মরহুম আব্দুল বারী স্মৃতি পাঠাগারের এই মানবিক উদ্যোগ সত্যিই অনন্য ও প্রশংসনীয়। এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এমন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।