সারা দেশে আবৃত্তিতে তৃতীয় বগুড়ার মেয়ে তাহিয়া

রবিউল ইসলাম শাকিল,

শব্দ আর ছন্দের নিপুণ কারুকার্যে দেশসেরা আবৃত্তিকারদের কাতারে নিজের নাম লিখিয়েছেন বগুড়ার মেধাবী কন্যা তাহিয়া ইসলাম। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬-এর চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় বাংলা কবিতা আবৃত্তিতে (খ-গ্রুপ) জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করে অনন্য গৌরব বয়ে এনেছেন তিনি।
উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ১ম স্থান ধিকার করে আজ জাতীয় পর্যায়ে ঢাকার মঞ্চে এই প্রতিযোগিতায় নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখেন তাহিয়া। তিনি দুপচাঁচিয়া বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। শিক্ষক মাতা মোছা. নূর এ নাজমী আখতার এবং ব্যবসায়ী বাবা মো. খায়রুল ইসলামের সুযোগ্য সন্তান তাহিয়া তার সাফল্যের এই মুকুটে যুক্ত করলেন আরেকটি উজ্জ্বল পালক।
তাহিয়ার সাফল্যের ডায়েরি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তার ঝুলিতে এখন শোভা পাচ্ছে আবৃত্তি, বিতর্ক, বক্তৃতা ও অভিনয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্জিত ১০১টি সনদ। এর আগে তিনি জাতীয় প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা ২০২৩-এ উপস্থাপনায় প্রথম এবং ২০১৯ সালে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় অভিনয়ে বিভাগীয় শ্রেষ্ঠ হয়েছিলেন। এছাড়া, স্কাউটিংয়ের সর্বোচ্চ সম্মান ‘শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড’ এবং ‘পিএস’ মেডেল তার বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ দেয়।
জাতীয় পর্যায়ের এই বিশাল প্রাপ্তিতে উচ্ছ্বসিত তাহিয়া। তার মতে, আবৃত্তি কেবল ছন্দের বিন্যাস নয়, বরং আত্মার খোরাক। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তাহিয়া বলেন,
“কবিতা আমার কাছে কেবল কিছু শব্দের সমাহার নয়, বরং হৃদয়ের গভীর অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ। জাতীয় পর্যায়ের এই মঞ্চে সেরা আবৃত্তিকারদের মাঝে নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারা আমার জন্য অনেক বড় একটি অভিজ্ঞতা। এই পুরস্কার আগামী দিনে আমাকে আরও ভালো আবৃত্তি করার এবং শিল্প-সংস্কৃতির সাথে যুক্ত থাকার প্রেরণা জোগাবে।”
আরো পড়ুনঃ সারা দেশে রচনা প্রতিযোগিতায় বগুড়ার মহসিনার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন
তাহিয়ার এই অর্জনে দুপচাঁচিয়া বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকমন্ডলী অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, তাহিয়ার মতো মেধাবীরাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনকে বিশ্বদরবারে নেতৃত্ব দেবে। জাতীয় পর্যায়ে ৩য় স্থান অধিকারের পর তাহিয়া এখন আরও বড় পরিসরে আবৃত্তি ও সংস্কৃতির চর্চায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চায়।




One Comment