জয়নুল আবেদীন, সাঘাটা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ফলিয়া দিগর বাজারে দোকানঘর ভাঙচুর, মালামাল নষ্ট এবং জোরপূর্বক তালাবদ্ধ করে দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক মোজাম্মেল হক সরকার (৭৯) সাঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুন সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে একই গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি ও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মোজাম্মেল হক সরকারের মালিকানাধীন দোকানঘরের সামনে উপস্থিত হন। এ সময় তারা অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। দোকানঘরের ভাড়াটিয়া আব্দুল বাকী, মোস্তাফিজুর রহমান সাঈদী ও শ্রী দিপক চন্দ্র এর প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে দোকানঘরের টিনশেড ও শাটার ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, আব্দুল বাকীর সেলুনের মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ২৫ হাজার টাকা, মোস্তাফিজুর রহমান সাঈদীর ভেটেরিনারি ফার্মেসির মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা এবং শ্রী দিপক চন্দ্রের হেয়ার কাটিং সেলুনের মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়। এছাড়া দোকানঘরের অবকাঠামোগত ক্ষতিসহ মোট প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি
করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে ভাড়াটিয়াদের রক্ষা করলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে দোকানঘরগুলো জোরপূর্বক তালাবদ্ধ করে চলে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে খবর পেয়ে জমির মালিক মোজাম্মেল হক সরকার ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি জানতে পারেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত লিটন বলেন, মোজাম্মেল হক সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি একাধিকবার থানা ও স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়। মাপজোখে দেখা যায় উভয়ের ঘর পরস্পরের জমিতে রয়েছে। সালিশে যার ঘর তার নিজ খরচে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী তিনি ছয় মাস আগে নিজের ঘর সরিয়ে নিলেও মোজাম্মেল হক সরকার এখনও তার জমি থেকে ঘর সরাননি। দোকানঘর ভাঙচুরের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা যদি কারও দোকানঘর ভাঙচুর বা ব্যবসার ক্ষতি করে থাকি, তাহলে ক্ষতিগ্রস্তরা তা বলুক। প্রমাণিত হলে যে শাস্তি হবে তা মেনে নেব। আমরা শুধু আমাদের জায়গায় দোকানঘর নির্মাণ করেছি।” এ বিষয়ে সাঘাটা থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।