জয়নুল আবেদীন,সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
গাইবান্ধার সাঘাটায় যমুনা নদীর খেয়াঘাটে নৌকায় তোলার সময় ১৭ বস্তা ইউরিয়া সার আটক করেছেন স্থানীয় লোকজন। পরে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে সারের কাগজপত্র যাচাই করেন। এ সময় সাত বস্তা সারের মেমো দেখানো হলেও বাকি ১০ বস্তার মেমো দেখাতে না পারায় সারগুলো জব্দ করে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়। তবে সারগুলোর উৎস ও পরিবহনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বুধবার দুপুরে সাঘাটা উপজেলার সাঘাটা নৌকাঘাটে এ ঘটনা ঘটে। সাঘাটা উপজেলা কৃষি অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাঘাটা বাজার থেকে ভ্যানে করে ইউরিয়া সারগুলো ঘাটে আনা হয়। পরে নৌকায় তোলার প্রস্তুতিকালে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে তাঁরা সারগুলো আটকে কৃষি অফিসে খবর দেন। খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি অফিসের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি আটক সারগুলোর কাগজপত্র যাচাই করেন। এ সময় সাত বস্তা সারের মেমো দেখানো হলেও বাকি ১০ বস্তার কোনো মেমো দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পরে ওই ১০ বস্তা সার জব্দ করে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়। স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গুয়াবাড়ি চরের সাহাদুলের নামে চার বস্তা এবং
উত্তর দীঘলকান্দি চরের রেজাউলের নামে তিন বস্তা সারের দুটি মেমোর তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া একই দিন সকাল ১০টার দিকে একই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আরও সাত বস্তা সার নৌকায় নেওয়ার সময় একটি মেমো পাওয়া যায় বলে জানা গেছে। এসব মেমোর সঙ্গে আটক সারগুলোর সম্পর্ক এবং সেগুলোর বৈধতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। ১০ বস্তা সারের মেমো না থাকার কারণ কী? সারগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, কার কাছে বিক্রির জন্য নেওয়া হচ্ছিল এবং পরিবহনের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম ছিল কি নাÑএসব প্রশ্নের উত্তর জানতে সারের সরবরাহকারী, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ক্রেতা ও পরিবহনের নথি যাচাই জরুরি। কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা ইউরিয়া সার নির্ধারিত নিয়মে বিক্রি ও বিতরণ হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা কৃষি বিভাগের দায়িত্ব। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সারের উৎস, মেমো এবং পরিবহনের উদ্দেশ্য পূর্ণাঙ্গভাবে যাচাই করা হলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে। সাঘাটা উপজেলা কৃষিসম্পসারণ কর্মকর্তা মামনুর রশীদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ যোগাযোগ করার চেষ্টা করে মালিককেও পাওয়া যাচ্ছে না। মালিকের সাঙ্গে যোগাযোগ হলে বিষটি বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।