জয়নুল আবেদীন,সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কামালেরপাড়া ইউনিয়নের জালালতাইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম শিক্ষক সংকটে কার্যত ভেঙে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। ছয়টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কাগজে-কলমে চারজন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও বাস্তবে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন মাত্র একজন শিক্ষক। তিনিও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, যাঁর বদলির আদেশ হয়েছে। ফলে যেকোনো সময় তিনিও কর্মস্থল ত্যাগ করলে বিদ্যালয়টি শিক্ষকশূন্য হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থাকলেও নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম প্রায় অচল। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় পাঠ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ছয়টি অনুমোদিত পদের মধ্যে প্রধান শিক্ষকসহ দুটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। কর্মরত চারজনের মধ্যে একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে, একজন পিটিআই প্রশিক্ষণে এবং আরেকজন অসুস্থতার কারণে তিন দিনের ছুটিতে রয়েছেন। ফলে পুরো বিদ্যালয়ের দায়িত্ব একাই পালন করছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, "আমারও বদলির আদেশ হয়েছে। যে কোনো সময় নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। এরপর বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি কী হবে,
তা নিয়ে আমিও উদ্বিগ্ন।" উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শাফী বলেন, "শিক্ষক বদলির ক্ষমতা আমাদের নেই। ঢাকা থেকেই বদলির আদেশ হয়। আমরা প্রয়োজন হলে একজন শিক্ষককে ডেপুটেশনে দিতে পারি। ওই বিদ্যালয়ে দুইজন শিক্ষককে ডেপুটেশনে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় সংসদ সদস্য তাঁদের সেখানে যোগদান করতে দেননি। তাঁর সিদ্ধান্তের বাইরে আমাদের কিছু করার সুযোগ ছিল না।"তবে এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ আকন্দ বলেন, "ডেপুটেশন দিয়ে সাময়িক সমাধান করলে সমস্যা থেকেই যাবে। আমি একজন শিক্ষকের ডেপুটেশন বাতিল করেছি। স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ দিয়েই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।" স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষিত জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এই এলাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট চললেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে এবং অভিভাবকদের মধ্যে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবকদের দাবি, অবিলম্বে বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্থায়ী শিক্ষক ও একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হোক। অন্যথায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে কোমলমতি শিক্ষার্থীরাই।