সাঘাটায় যমুনা নদীর ডানতীর রক্ষা প্রকল্পে নকশার কাগজে কাজ, মাঠে ফাঁকি

জয়নুল আবেদীন, সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

গাইবান্ধার সঘাটা উপজেলায় যমুনা নদীর ডানতীর সংরক্ষণ প্রকল্প নদীভাঙন থেকে জনপদ, ফসলি জমি ও অবকাঠামো রক্ষার জন্য সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের আতঙ্কে থাকা সাঘাটা উপজেলার হাজারোমানুষের জন্য এই প্রকল্প ছিল আশার আলো। তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রকল্পবাস্তবায়নের চিত্র নকশা ও প্রস্তাবনার সঙ্গে মিলছে না। কাগজে-কলমে মানসম্মতকাজ দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে চলছে ব্যাপক অনিয়ম ও গাফিলতি।স্থানীয়দের অভিযোগ, গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)–এর একাংশকর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের যোগসাজশে প্রকল্পের কাজ ইচ্ছেমতো করাহচ্ছে। নির্ধারিত কারিগরি নকশা অনুযায়ী যেখানে নির্দিষ্ট মাপের জিও ব্যাগ,পাথর ও গভীরতা নিশ্চিত করার কথা, সেখানে বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক জানান, অনেক জায়গায় জিও ব্যাগে পাথরের পরিবর্তে বালু ও মাটি ভরা হচ্ছে। এতে সাময়িকভাবে তীর ভরাট মনে হলেও বর্ষার প্রথম ধাক্কাতেই সেগুলো সরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, প্রকল্পের কিছু অংশে নির্ধারিত গভীরতায় খনন না করেই কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে। ফলে তীর সংরক্ষণের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “কাগজে যত কাজ দেখানো হচ্ছে, বাস্তবে তার অর্ধেকও নেই। এভাবে কাজ হলে নদীভাঙন রোধ তো দূরের কথা, নতুন করে ঝুঁকি বাড়বে।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা স্পষ্টকোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে উপজেলার গোবিন্দি ও ভরতখালী পয়েন্টে গিয়ে সেখানে পাউবো কর্মকর্তা সুমন মিয়া ও আলমগীর হোসেন ও সাগর নামে তিনজনকে উপস্থিত পাওয়া গেলেও তারা অভিযোগ অস্বীকার করলেও স্বচ্ছ তদন্ত ও নিয়মিত তদারকি এবং বালু, পাথর ও সচ্ছ কাজের অভাব স্পষ্ট। তারা জানান সামান্য পরিমাণ পাথর নিম্নমানের বালু ও সিমেন্ট ঠিক আছে।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ স্বাধীনভাবে তদন্ত করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তা না হলে জনস্বার্থে নেওয়া এই নদীর তীর রক্ষা প্রকল্প অর্থ লুটপাটের দৃষ্টান্ত হয়েই থেকে যাবে।



