জয়নুল আবেদীন, সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে কাকড়া গাড়িতে বোঝাই করার সময় অভিযান চালিয়ে এক যুবককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত পাইপ ধ্বংস করা হয়েছে এবং বালু পরিবহনে ব্যবহৃত কাকড়া গাড়ির ব্যাটারি জব্দ করা হয়েছে। শনিবার গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের আখকচুয়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত যুবকের নাম সুমন (১৯)। তিনি কচুয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম শফিকুল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে কাকড়া গাড়িতে বোঝাই করার সময় সুমনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী দায়ের করা মামলায় তাঁকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন সাঘাটা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রতন কুমার দত্ত। অভিযানকালে অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত পাইপ ধ্বংসের পাশাপাশি বালু পরিবহনে ব্যবহৃত কাকড়া গাড়ির ব্যাটারি জব্দ করা হয়। তবে এ ঘটনায়
বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ ছিল কি না, কিংবা এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। নদীর বালু লুটে পরিবেশ ও জনপদে ঝুঁকি নদী থেকে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশের গঠন পরিবর্তন, তীরভাঙন, কৃষিজমি ও নদীতীরবর্তী জনবসতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শুধু পরিবহনযানের চালককে সাজা দেওয়াই যথেষ্ট নয়; অবৈধ বালু উত্তোলনের উৎস, ব্যবহৃত সরঞ্জাম এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করাও জরুরি। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বাঙ্গালী নদীসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে নদী ও জনপদ রক্ষায় অভিযান কেবল সাময়িক পদক্ষেপে সীমাবদ্ধ না থাকে। সাঘাটা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রতন কুমার দত্ত জানান প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।