জয়নুল আবেদীন, সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আগামী অক্টোবর মাস থেকে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা আসার পর থেকেই গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী আগাম হাওয়া। আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত নারী সদস্য ও সাধারণ সদস্য প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, হাট-বাজারে মতবিনিময় এবং বিভিন্ন সামাজিক-ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে জোরেশোরে। উপজেলা সূত্রে জানা গেছে, সাঘাটার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ঘুড়িদহ ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান পরিষদের মেয়াদ শেষ হতে এখনও প্রায় দেড় বছর বাকি। তবে বাকি ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ চলতি বছরের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে নির্বাচনের সম্ভাবনাকে ঘিরেই এসব ইউনিয়নে নির্বাচনী তৎপরতা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে চেয়ারম্যান পদে অর্ধশতাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। একই সঙ্গে সংরক্ষিত নারী সদস্য ও সাধারণ সদস্য পদপ্রত্যাশীরাও নিজ নিজ এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করার পাশাপাশি তারা নিজেদের পক্ষে কর্মীসমর্থক বৃদ্ধির চেষ্টা করছেন। একারণে গ্রামীণ জনপদের চায়ের দোকান, হাট-বাজার, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান এখন নির্বাচনী আলোচনা ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের শক্তি-সামর্থ্য নিয়ে সরব উঠছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও শুরু হয়েছে
প্রার্থী বাছাই ও দলীয় সমর্থন নিশ্চিত করার প্রতিযোগিতা। উপজেলা জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে হলদিয়া ইউনিয়ন বাদে বাকি ৯টি ইউনিয়নে একজন করে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। ঘোষিত প্রার্থীরা এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সমর্থিত সম্ভাব্য প্রার্থীরাও দলীয় সমর্থন আদায়ে সক্রিয় রয়েছেন। তারা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পোস্টার, লিফলেট এবং ব্যক্তিগত প্রচারণার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন ইউনিয়নে দলীয় সমর্থনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে নীরব প্রতিযোগিতাও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তফসিল ঘোষণার আগেই সাঘাটার ইউনিয়নগুলোতে যে মাত্রার নির্বাচনী তৎপরতা শুরু হয়েছে, তা এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলতে পারে। বিশেষ করে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচনের মূল আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশ নিতে পারা-না পারা নিয়ে জনমনে প্রশ্নও নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার আগেই সাঘাটার ইউনিয়নগুলোতে নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। এখন ভোটারদের নজর নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণা, রাজনৈতিক দলগুলোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক মনোনয়নকে ঘিরে।