বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বিশুরপাড়া গ্রামে সদ্য নির্মিত একটি রাস্তা ঘিরে এখন চরম ক্ষোভ আর হতাশা বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুরু থেকেই নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। মানসম্মত রড, পাথর ও সিমেন্ট ব্যবহার না করে নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার ফলে নির্মাণের মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই সামান্য বৃষ্টির পানিতে রাস্তার ব্লকগুলো ভেঙে পড়েছে। এই ঘটনা পুরো প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে এবং স্থানীয়দের মাঝে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, এটি কোনো সাধারণ ত্রুটি নয়; বরং পরিকল্পিত দুর্নীতির স্পষ্ট উদাহরণ। যথাযথ তদারকি ও জবাবদিহিতার অভাবে দায়িত্বপ্রাপ্তরা জনগণের করের টাকা অপচয় করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক কাজ এভাবে নিম্নমানের হওয়ায় জনদুর্ভোগ কমার বদলে উল্টো বেড়েছে
এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন, যাতে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়। একইসঙ্গে, তারা টেকসই ও মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করে পুনরায় রাস্তাটি নির্মাণের জোর দাবি তুলেছেন, যেন ভবিষ্যতে এমন অনিয়মের পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং জনগণ তাদের ন্যায্য সুফল পায়। নির্মাণকাজে অনিয়মের এই অভিযোগের বিষয়ে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ‘জুয়েল এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী তৌফিকুল ইসলাম ভিন্ন দাবি করেছেন। তিনি জানান, কাজটি প্রায় এক বছর আগে সম্পন্ন হয়েছে। তবে কাজের মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠলে বা কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে সেটি পুনরায় সংস্কার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। যদিও নির্মাণ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তার এমন বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।