স্টাফ রিপোর্টার
মানবাধিকার সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার মহিচরন উচ্চ বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী নানা সচেতনতামূলক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। নেটস বাংলাদেশের সহযোগিতায় পল্লী শ্রী সংস্থার হোপ প্রকল্পের আওতায় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল কিশোরীদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা, বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষা এবং যৌতুক ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধসহ নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে সচেতনতামূলক সাইকেল র্যালি। সচেতনতামূলক সাইকেল র্যালিতে প্রায় শতাধিক কিশোরী অংশ নেয়। তারা গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাল্যবিয়ে, যৌতুক ও নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির বার্তা দেয়। র্যালিকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। এদিকে প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মহিচরন উচ্চ বিদ্যালয় ও হুয়াকুয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের কিশোরীরা অংশ নেয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় মহিচরন উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। দিনব্যাপী আয়োজনে শিক্ষার্থীরা চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মেধা ও চিন্তাশক্তি বিকাশে বুদ্ধিমত্তা
পরীক্ষারও আয়োজন করা হয়। মহিচরন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পল্লী শ্রী হোপ প্রকল্পের পরিচালক ছামছুন্নাহার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিঘদাইড় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মাদ আলী লালন, হুয়াকুয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাঃ ছামছুন্নাহার বেগম,উপজেলা নাগরিক সমাজ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম এম মেহেরুল, পল্লী শ্রী প্রকল্প সমন্বয়ক মোঃ মাহমুদ মানিক এবং এরিয়া কো-অর্ডিনেটর তাইয়েব্যাতুন্নাহার প্রীতি। এ ছাড়া স্থানীয় সুধীজন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকেরা বলেন, কিশোরীদের খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি বাল্যবিয়ে, যৌতুক এবং নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে কিশোরীদের নেতৃত্বে সচেতনতামূলক সাইকেল র্যালি সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। দিনব্যাপী এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে মহিচরন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো এলাকায় যেন সাজ সাজ রব পড়ে যায়।