বগুড়ার উন্নয়নে আজীবন স্বপ্নদ্রষ্টা, শিক্ষা-সংস্কৃতি-ধর্মীয়সহ সকল ক্ষেত্রে সেইসব স্বপ্নের বাস্তবায়নকারী, সোনাতলা তথা বগুড়ার কৃতী সন্তান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক চৌকস কর্মকর্তা লেঃ কর্নেল (অবঃ) জিল্লুর রহমান গত ৭ আগস্ট রাত রাত ২ টা ১৫ মিনিটে ঢাকা সিএমএইচ-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। কাজপাগল মহান এই কীর্তিমানের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বগুড়াবাসী হারালো মহিরূহে পরিণত হওয়া এক বটবৃক্ষকে। গুণী ব্যক্তিত্ব লেঃ কর্নেল (অবঃ) জিল্লুর রহমানের জন্ম ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ নভেম্বর বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার ফুলবাড়ীয় গ্রামে। তৎকালীন সোনাতলা হাইস্কুলের কৃতী শিক্ষার্থী লেঃ কর্নেল (অবঃ) জিল্লুর রহমান ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি একজন সৈনিক হিসেবে পাক-ভারত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কড়া নজরদারির কারণে ইচ্ছা থাকা সত্বেও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেন নি। তবে তাঁর অবস্থান ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষে। ১৯৭৪-৭৫ খিষ্টাব্দে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর একজন চৌকস অফিসার হিসেবে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চোরাচালান ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ঢাকা জেলার সামরিক শাসনকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮২ খিষ্টাব্দে তিনি বাংলাদেশ রাইফেলস্ ঢাকার সেক্টর কমাণ্ডার হিসেবে গুরুদায়িত্ব পালন
করেন। ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি সৈয়দপুর আর্মি স্কুল অব এডুকেশন অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এ প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর তিনি ঢাকায় আর্মি স্কুল অব ফিজিক্যাল ট্রেনিং অ্যান্ড স্পোর্টস্ এ ডেপুটি কমা-ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকার সেনাসদর পদাতিক পরিদপ্তরে জিএসও-ওয়ানের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ খিষ্টাব্দে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ‘জেএসএস সার্ভিস লিমিটেড’ নামে একটি সিকিউরিটি কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দে বগুড়ার উন্নয়নে গঠিত ‘বগুড়া জেলা উন্নয়ন পরিষদ’ এর তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দে জাতীয় পর্যায়ে গঠন করা ‘জাতীয় নাগরিক ফোরাম’ এর আহ্বায়ক ও পরবর্তিতে সভাপতি নির্বাচিত হন। কিছুকাল তিনি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করলেও ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ইতি টানেন। তিনি লায়ন্স ক্লাব অব ‘ঢাকা ড্রিম সিটি’র প্রেসিডেন্ট এবং লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল ক্লাব অব ‘ঢাকা ড্রিম সিটি’র লিডার অব দ্য ক্লাব অ্যান্ড ডিরেক্টর হিসেবে মানবতার সেবায় সাহসী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি জন্মস্থান বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলার ফুলবাড়ীয়া গ্রামে ফুলবাড়ীয়া প্রাথমিক স্কুল, ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে ফুলবাড়ীয়া দাখিল মাদ্রাসা, ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দে বগুড়া মহিলা কলেজ, ২০০০ খ্রিষ্টাব্দে সোনাতলার ফুলবাড়ীয়া গ্রামে হিফজুল কোরআন এতিমখানা ও মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন।