প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর নিকট ইবতেদায়ি শিক্ষকদের খোলা চিঠি


ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সূচনাঃ
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাক্ষরিত মাদ্রাসা শিক্ষা অধ্যাদেশ ১৯৭৮ (ড়ৎফরহধহপব হড় রী ড়ভ ১৯৭৮) এর প্রদত্ত ক্ষমতা বলে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কয়েক বছর পর ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মাদ্রাসা শিক্ষা অধ্যাদেশ ১৯৭৮ (ড়ৎফরহধহপব হড় রী ড়ভ ১৯৭৮) এর ১৭ (২) (বি) ধারার প্রদত্ত ক্ষমতা বলে মাদ্রাসা শিক্ষার প্রাথমিক স্তর ফোরকানিয়া মাদ্রাসাসমূহ এবং নতুন করে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা নাম করণ করে ১৯৮৪ সাল হতে মঞ্জুরী প্রদান শুরু করেছিল।
ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সম্মানী, অনুদান ও গোড়াপত্তনঃ
১৯৮৪ সাল হতে মঞ্জুরী প্রদান শুরু করলেও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকদের কোন বেতন ভাতা ছিল না। ১৯৯১ সালে বিএনপি তথা বেগম খালেদা জিয়া সরকার গঠন করার পর ১৯৯৪ সালে অবহেলিত এবং বেতন বিহীন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা সূমহ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ বাধ্যতামুলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরীবিক্ষণ ইউনিট এর অধিনে (স্মারক নং শাঃ ৩/২ এম-২২/৯৩/৫৫৯ তারিখঃ ০৮/০৫/১৯৯৪ পত্র মূলে) প্রতিটি ইউনিয়নে ১ টি করে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা অনুদান দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। উপজেলা ও জেলা যাচাই বাছাই কমিটির বিভিন্ন শর্তের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে প্রায় ৪৫০০ হাজার ইউনিয়নের মধ্য হতে সারা দেশে মাত্র ১৫১৯ টি মাদ্রাসা অনুদানভুক্ত করা হয়। শিক্ষকদের অনুদান মাসিক বেতন ৫০০/ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এখানে উল্লেখ্য বে-সরকারি রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষামন্ত্রণালয়ের একই আদেশের বলে ৫০০/- টাকা অনুদান শুরু হয়েছিল । ১৯৯৬ সালে শিক্ষামন্ত্রণালয় হতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদা হলে বে-সরকারি রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধিনে চলে যায়। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা সূমহ শিক্ষান্ত্রণালয়ের অধিনেই থাকে। আওয়ালীগ সরকার ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা সূমহের আর কোন সুযোগ সুবিধা প্রদান করেনি।
ইবতেদায়ী মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তি ও বৃত্তি প্রদানুঃ
২০০১ সালে বিএনপি ও চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পর ২০০২ সালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তি দেয়া শুরু করে। ২০০৩ সালে সবার জন্য শিক্ষার আওতায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা সূমহের সকল শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই বিতরণ শুরু করে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শিক্ষার্থীর জন্য উপবৃত্তি চালু হয়েছে। এখন শুধু শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত হওয়া সময়ের দাবি।
বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করাঃ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বে-সরকারি রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন ভাতা ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করতে থাকে সর্বশেষ ২০১৩ সালের ৯ই জানুয়ারী ২৬১৯৫ টি রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয় একই মানের মাদ্রাসা শিক্ষার প্রাথমিক স্তর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা সমূহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় থাকায় সারাদেশে একটি মাদ্রাসা জাতীয়করণ করেনি। ২০১৫ সালে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদা হয়। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা সূমহ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপর ন্যাস্ত করা হয়। অদ্যাবধি পর্যন্ত মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা সমূহের প্রশাসনিক দায়িত্ব দেখাশোনা করছে।
একমুখী শিক্ষা চালুঃ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার একমুখী শিক্ষা চালু হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার পাঠ্যবই একই হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় অতিরিক্ত তিনটি পাঠ্যবই আলাদা পাঠদান করানো হয় যেমন- আরাবী, কোরআন ও তাজবীদ এবং আকাঈদ ফিকাহ। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা সমূহের স্কুল খোলার সময় সকাল ১০ টা এবং বন্ধের সময় বিকেল ৪ টা। ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা সমূহের সমাপনি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা সমূহের বাৎসরিক ছুটি প্রায় একই। অতি সম্প্রতি অর্থ প্রাপ্তি সাপেক্ষে স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা সমূহের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি সমপর্যায়ে চালু করতে যাচ্ছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। অথচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাথে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা সমূহের বেতন বৈষম্য অনেক। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার একমুখী শিক্ষার কারিকুলামে পাঠদান করে বিধায় প্রাথমিক শিক্ষার বৈষম্য দূরীকরণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণ করা অপরিহার্য।
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার মূল ¯্রােতের সাথে ন্যয্যতার ভিত্তিতে সত্যিকার অর্থে একীভূতকরণের মাধ্যমে ইসলামী মূল্যবোধকে জারি রাখা এবং আজ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। ৯০% মুসলমানের দেশে মাদ্রাসা ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও হবে, জাতীয়করণ হবে এটাই জাতির প্রত্যাশা। ইসলামী শিক্ষার প্রসার ঘটলে সমাজে অন্যায়-অবিচার দূর হবে, আইন শৃঙ্খলার উন্নতি হবে। নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হবে জাতি। ৪০ বছর ধরে খেয়ে না খেয়ে ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় যারা কাগজ কলম খাতা পেন্সিল সংরক্ষণ করে রেখেছে, প্রতিষ্ঠান ধরে রেখেছে তাদের দিকে সুনজর দেয়ার সময় এসেছে। অন্য চাকরিজীবীরা বেতন পেলেও পুনরায় যেখানে বেতন বৃদ্ধির জন্য আন্দোলন করছে সেখানে ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলি এমপিওভূক্তির ন্যায্য দাবি করছে মাত্র। বাংলাদেশের ১৫১৯ টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা নামমাত্র অনুদানভুক্ত বাকি গুলি অনুদানবিহীন থাকলেও বিগত সময়ে সেদিকে মোটেই নজর না দিয়ে একসাথে ২৬ হাজার প্রাইমারি স্কুল জাতীয়করণ করা হয়েছে।
আমাদের দাবিঃ
২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি অন্তবর্তীকালীন সরকার সকল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণের ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্তএমপিও কার্যক্রমই সমাপ্ত হয়নি। বর্তমান সরকার ২৫-২০২৬ অর্থবছরে ৭২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও কাজের কোন অগ্রগতি নেই। এক্ষেত্রে আমাদের দাবি, এমপিও আবেদনকৃত সকল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার এমপিও শর্ত শিথিল করে শর্ত পুরণের সময় দিয়ে এমপিও গেজেট দ্রুত জারি করতে হবে। রেজিস্ট্রেশনকৃত কোডভুক্ত সকল ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এমপিও’র গণবিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে। রেজিস্ট্রেশনকৃত কোডভুক্ত সকল ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এমপিও’র গণবিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে।মন্ত্রণালয় কর্তৃক এমপিওভুক্তির জন্য দীর্ঘদিন যাবত ১০৮৯ টি যাচাই ও বাছাই করা হলেও তাহার তালিকা ও গেজেট প্রকাশ করা হয়নি। দ্রুত গেজেট প্রকাশের জন্য আপনার সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।
এমতাবস্থায়, আমাদের বিশ্বাস বিএনপি সরকার অতীতে মাদ্রাসা শিক্ষার অধ্যাদেশ ১৯৭৮ (ড়ৎফরহধহপব হড় রী ড়ভ ১৯৭৮) জারী, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাসমূহের শিক্ষদের বেতন, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি এবং বিনামূল্যে বই প্রদান করে মাদ্রাসা শিক্ষার প্রচার ও মান উন্নয়ণের ভূমিকা রেখেছিল আমরা আশা করি তদ্রুপ বর্তমানে বিএনপি মাদ্রাসা শিক্ষাকে বিশ্বমানের শিক্ষার সাথে একিভুত করবে। মাদ্রাসা শিক্ষাকে বিশ্বমানের শিক্ষার সাথে একিভুত করতে সরকারের কার্যাবলীতে যখন যেখানে যেভাবে সহযোগিতা করার প্রয়োজন আমরা শিক্ষকবৃন্দ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সেটা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি। বিএনপি সরকার মাদ্রাসা শিক্ষাকে বিশ্বমানের শিক্ষা ব্যবস্থায় রূপান্তর করবে এ আশা এখন হাজার হাজার ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের।
মোঃ শামছুল আলম
মহাসচিব
বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোট
কেন্দ্রীয় কমিটি ও বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ, ঢাকা।



