জয়নুল আবেদেীন , সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় গত দুই মাসে অন্তত ১৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনায় শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে চোর আতঙ্ক বিরাজ করছে। চুরি হচ্ছে বিদ্যালয়ের ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, ইন্টারনেট অনু, রাউটার , পানির পাম্প মোটর সহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সরঞ্জাম। সাঘাটা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ আগস্ট থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত উপজেলার সুজালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঠানপাড়া, খামারধনারুহা, বেলতৈল, ডিমলাপদুশহর, পদুমশহর শীলপাড়া, তেলিয়ান, নশিরারপাড়া, চেরাগীদহ, কুকড়াহাট, সন্যাসদহ, পদুমশহর ৭ টেকর, পদুমশহর মধ্যপাড়া, সানকিভাঙ্গা, অনন্তপুর, বাঙ্গাবাড়ী, কচুয়া ও চর নলছিয়াসহ অন্তত ১৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি হয়েছে। বিদ্যালয়গুলোর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অধিকাংশ বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী না থাকায় রাতের বেলায় নিরাপত্তাহীন অবস্থায় পড়ে থাকে মূল্যবান শিক্ষা উপকরণ। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা বিদ্যালয়ে ঢুকে বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে যাচ্ছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সুজালপুর সরকারী
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, নৈশপ্রহরী না থাকার সুযোগে চোরেরা রাতে বিদ্যালয় ভবনের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে আলমারী তছনছ করা সহ ভেতর থেকে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, ইন্টারনেট অনু, রাউটার চুরি করে নিয়ে গেছে। সাঘাটা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্যাহিশ শাফী বলেন, নৈশপ্রহরী না থাকায় বিদ্যালয়গুলোর ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, রাউটার , পানির পাম্প মোটর সহ গুরুত্বপূর্ণ মালামাল চুরি হচ্ছে। বিদ্যালয়গুলোতে চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় মামলা করা হয়েছে। সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ দুরুল হুদা বলেন, তিনি কয়েকদিন হলো থানায় যোগদান করেছেন। বিদ্যালয়ে চুরির খবর পাওয়ার পর মামলা করা হয়েছে। চোর শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি রাতে পুলিশি টহলের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এদিকে, অল্প সময়ের ব্যবধানে এতগুলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনায় চুরি প্রতিরোধে কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।