জয়নুল আবেদীন,সাঘাটা-ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমাদেওয়া শেষ হওয়ার পর দীর্ঘদিন জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের দখলে থাকা গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) সংসদীয় আসনটিতে এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী বা আওয়ামী লীগ না থাকায় নানা হিসাব নিকাশ শুরু হয়েছে। এ আসনে এবার বিএনপির বহিস্কৃত ও জাতীয় পার্টির মনোনয়নবঞ্চিত দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর কারণে আসন্ন নির্বাচনের ভোটের সমীকরণ বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মাঠে সক্রিয়তা, ব্যক্তিগত প্রভাব ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক যোগাযোগের কারণে এ দুই প্রার্থী এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিএনপি থেকে বহিস্কৃত নেতা নাহিদুজ্জামান নিশাদ দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কৃত হলেও রাজনীতির মাঠে সক্রিয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাঘাটা ও ফুলছড়ির বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে সরাসরি অংশগ্রহণ করে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় পরিচয় হারালেও তার এই সরব উপস্থিতি তাকে ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় ও আলোচিত করে তুলেছে। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির মনোনয়নবঞ্চিত নেতা, সাবেক দুই বারের উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এএইচ এম গোলাম শহীদ রঞ্জু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও স্থানীয় প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কারণে তিনি জাতীয় পার্টির ভোটব্যাংকে প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবেন
বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আবারও আলোচনায় এসেছেন ফারুক আলম সরকার। এক সময় আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া এই নেতা ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে পরাজিত হন। এবার অন্তত আটজন মনোনয়নপ্রত্যাশীকে বঞ্চিত করে তাকে আবারও দলীয় প্রার্থী করায় স্থানীয় বিএনপির ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এবারের নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী প্রার্থী হওয়ায়। তিনি নিজ এলাকা গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের পাশাপাশি এ আসনেও জাতীয় পার্টির হয়ে লড়ছেন। তাকে নিয়েও স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতা কর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে আমওয়ামী লীগের অবর্তমানে অতিথি প্রার্থী হয়ে শামীম হায়দার পাটোয়ারী আসনটি আবারও জাতীয় পার্টির দখলে নিতে পারবেন কি? পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি আব্দুল ওয়ারেছ আলী দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। তারা আসনটি পেতে মরিয়া হয়ে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকছে । সব মিলিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ গাইবান্ধা-৫ আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। বহিস্কৃত ও মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র দুই প্রার্থীর সক্রিয়তা শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফলে কী প্রভাব ফেলে সে দিকেই এখন নজর সাঘাটা-ফুলছড়িবাসির।