গাইবান্ধাা- ৫ আসনে প্রচারণায় প্রার্থীদের ব্যস্ততা: বিএনপি- জাপায় বিভক্তি, স্বস্তিতে জামায়াত

জয়নুল আবেদীন,সাঘাটা(গাইবান্ধা ) প্রতিনিধি

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ফারুক আলম সরকার ধানের শীষ, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল ওয়ারেছ আলী দাঁড়িপাল্লা, জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামীম হায়দার পাটোয়ারী লাঙ্গল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদুজ্জামান নিশাদ হাঁস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অতীতে ১৯৮২ সালের পর দীর্ঘ সময় ধরে এ আসনটি জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও দলীয় ভাঙন ও সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে জাতীয় পার্টি এখন আর আগের অবস্থানে নেই। অন্যদিকে নিষিদ্ধ থাকায় এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে এবার সবমিলে ৮ জন প্রার্থী লড়াইয়ে অংশগ্রহন করলেও নির্বাচনের লাইমলাইটে রয়েছে বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র। বিএনপির অবস্থান তুলনামূলক শক্ত হলেও দলের বহিষ্কৃত প্রভাবশালী নেতা নাহিদুজ্জামান নিশাদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। ফলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যেও বিভাজন স্পষ্টÑএকাংশ ধানের শীষের পক্ষে, অন্য অংশ হাঁস প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এতে খোদ বিএনপির মূলধারার প্রার্থী অস্বস্তিতে পড়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দুই উপজেলার ডরজনের অধিক সংখ্যাক নেতাকে বহিস্কার করা হয়েছে। কোনো নেতাকে সর্তক বার্তাও দেয়া হয়েছে। বকিস্কার এবং সর্তকতার তোয়াক্কা না করে অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারনায় অংশ নিচ্ছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে থাকা বিএনপির নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মতলুবর রহমান রেজা বলেন,দলের হাইকমান্ডের ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই পরাজয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তাই বাধ্য হয়ে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে ভোটের ফলাফলই বলে দিবে কারা সঠিক পথে আছে।
তবে বিএনপির মূলধারার উপজেলা নেতারা বলছেন, যারা দলের বিপক্ষে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর হয়ে কাজ করছেন তারা দলের আদর্শ এবং নৈতিকতা বিরোধী। এবার সারাদেশের ন্যায় ফুলছড়ি আসনেও ধানের শীষের পক্ষে গণযোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তাই দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কর্মকা-ে লিপ্ত হয়ে কেউই ধানের শীষের বিজয় ঠেকাতে পারবে না।
জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভেদের প্রভাব পড়েছে প্রচারণায়ও। দলটির প্রার্থী শামীম হায়দার পাটোয়ারী নিজ এলাকা গাইবান্ধা-১ আসনের পাশাপাশি গাইবান্ধা-৫ আসনেও প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন। শামীম হায়দার পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে পার্টিও ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. গোলাম শহীদ রঞ্জুও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে প্রচারণায় নেমেছেন।
অন্যদিকে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মতো বিভক্তি নেই জামায়াতে ইসলামীতে। একক প্রার্থী হওয়ায় আব্দুল ওয়ারেছ আলী স্বস্তিতে সংগঠনের দুই উপজেলার সকল নেতাকর্মী সমর্থদের সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিনিয়ত ভোটারদেরর বাড়ি,মাঠে-ঘাটে ,হাটে-বাজারে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এমনই ভাবে চার প্রার্থীই নিজ নিজ কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি উঠান বৈঠকের মাধ্যমে উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরছেন প্রার্থীরা।



