আটোয়ারীতে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

মোঃ ইউসুফ আলী, আটোয়ারী (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি

“ মোদের গর্ব, মোদের আশা, আ-মরি বাংলাভাষা ” প্রতিপাদ্যে পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিভিন্ন কর্মসুচির মাধ্যমে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।
দিবসটির কর্মসূচির মধ্যে কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারে বাংলা বর্ণমালা দ্বারা সজ্জিতকরণ, রাত ১২.০১ মিনিটে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ভাষা শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত/প্রার্থনা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ ছিল অন্যতম। একুশের রাত ১২.০১ মিনিটে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়।
এরপর ধারাবাহিকভাবে, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগসহ সকল সরকারি-বেসরকারি,স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বিএনপি, জাসদ, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে এক মিনিট নিরবতা পালন ও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করা হয়।
পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিপামনি দেবী’র সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর গুরুত্বারোপ করে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. মোঃ হুমায়ুন কবীর, ওসি মোঃ মতিয়ার রহমান, উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম দুলাল, উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ্ব মোঃ নজরুল ইসলাম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক মোঃ পশিম উদ্দীন, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার শেখ নুরুল ইসলাম, রাধানগর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার যতীশ চন্দ্র বর্মন, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ ইউসুফ আলী, জুলাই যোদ্ধা মোঃ নাঈম উদ্দীন রাব্বু প্রমুখ। বক্তারা বলেন, ১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবীতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রসমাজ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথে নেমে আসে। আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশ গুলি চালালে সালাম,বরকত, রফিক,জব্বার ও শফিকসহ নাম না জানা আরও অনেকে শহীদ হন।তাদের আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় বাংলা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি লাভ করে এবং ভাষা আন্দোলণ বাঙ্গালীর স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত্তি রচনা করে। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও রিপামনি দেবী বলেন, বাংলা ভাষার দাবীতে বাংলাদেশের মানুষ জীবন দিয়েছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে এটি নজিরবিহীন ঘটনা। প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মাপ-জোকে আসে বার বার একুশ। বর্তমানে সারা বিশ্বে এই দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।
সভায় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সুধিজনসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
জানাগেছে, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করেছেন এবং উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়ে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত/প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।



