অবহেলিত উত্তরাঞ্চলের ট্রেন, যাত্রী সাধারণের ভোগান্তি নিত্যসঙ্গী

জয়নুল আবেদীন, সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

উত্তরাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোতে যাত্রীদের ভোগান্তি ক্রমেই বেড়েই চলেছে। নির্ধারিত সময়সূচি মানা হচ্ছে না, ভাঙাচোরা কম্পার্টমেন্টে যাত্রী পরিবহন হচ্ছে, আবার দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি রেলস্টেশন বন্ধ থাকায় ক্রসিং জটিলতা বাড়ছে। বিশেষ করে যেসব এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা ট্রেন, তারা সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখে পড়ছেন।
গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে ওঠা বগুড়ার সান্তাহারগামী করতোয়া আন্তঃনগর এক্সপ্রেস-এর যাত্রী মোস্তাফিজুর রহমান সুজন বলেন, “কম্পার্টমেন্টের ভিতরে ধুলোবালি আর ময়লা জমে থাকে। আসনে বসলেই কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। দেখে মনে হয় যেন পশুপাখির ঘর।”
সাঘাটার বোনারপাড়া রেলস্টেশন থেকে ওঠা রফিকুল ইসলাম জানান, “রাত ৮টা ২০ মিনিটে চলার কথা থাকা ট্রেনটি প্রায় প্রতিদিন রাত ১০টার দিকে আসে। এতে যাত্রীরা নিয়মিত দেরিতে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।”
সান্তাহার-পঞ্চগড় রুটে চলাচলকারী দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনেরও অবস্থা একই রকম। বগুড়া, গাইবান্ধা, সাঘাটা, রংপুর ও দিনাজপুর এলাকার শত শত যাত্রী ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা কাজে এই ট্রেনে যাতায়াত করেন। ট্রেনটি আন্তঃনগর হলেও পরিবেশ অনেকটাই লোকাল ট্রেনের মতো। ভাঙা দরজা-জানালা মেরামতের উদ্যোগ নেই, টয়লেটে পানি নেই এবং দুর্গন্ধে যাত্রীদের কষ্ট পেতে হয়। মাঝেমধ্যেই ইঞ্জিন বিকল হয়ে দাঁড়াতে হয়। নিয়মিত যাত্রী রানা সরকার ও বুলু মিয়া জানান, “আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট কেটেও লোকাল ট্রেনের সুবিধা পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। শতাধিক হকারের কারণে চলাচল খুবই কষ্টকর।”
সান্তাহার-বোনারপাড়া-লালমনিরহাট রুটে দীর্ঘদিন ধরে অন্তত ১৫টি রেলস্টেশন কার্যক্রম বন্ধ। ফলে এসব স্টেশনে ক্রসিংয়ের সুযোগ নেই। ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনগুলো বড় স্টেশনে থামলে বিপরীত দিক থেকে আসা লোকাল ট্রেনকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। বন্ধ স্টেশনগুলোতে ক্রসিং অপেক্ষায় ট্রেনগুলো প্রায়ই দেরিতে পৌঁছায়, ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
এই রুটের লোকাল ট্রেনগুলোর ভোগান্তিও নিত্যদিনের সঙ্গী। বোনারপাড়া থেকে সান্তাহারগামী ‘কলেজ ট্রেন’-এ সন্ধ্যার পর আলোর ব্যবস্থা নেই, টয়লেট ভেঙে গেছে। ধারণক্ষমতার তিনগুণ যাত্রী নিয়েও কোচ বাড়ানোর উদ্যোগ নেই। টিকিটবিহীন যাত্রীরা অবাধে চলাচল করলেও পরিদর্শন নেই। ভেলুরপাড়া স্টেশন থেকে ওঠা রেজাউল করিম বলেন, “দীর্ঘদিন ট্রেনটি অবহেলিত। যাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।”
বোনারপাড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনের মাস্টার প্রদীপ চন্দ্র জানান, বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক তছলিম আহম্মেদ খান বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। পরিস্থিতি বুঝে সকল সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উত্তরাঞ্চলের ট্রেনযাত্রীদের দাবিÑনির্ধারিত সময়সূচি নিশ্চিত করা, বন্ধ স্টেশন পুনরায় চালু করা, কোচ সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা জোরদারের মাধ্যমে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।



